২৯ অগাস্ট, ২০২০ ০৮:০৫ পিএম

বিএসএমএমইউতে পোস্ট কোভিড ফলোআপ ক্লিনিক চালু 

বিএসএমএমইউতে পোস্ট কোভিড ফলোআপ ক্লিনিক চালু 
বিএসএমএমইউতে পোস্ট কোভিড ফলোআপ ক্লিনিক উদ্বোধন করছেন উপাচার্য অধ্যাপক ডা. কনক কান্তি বড়ুয়া। ছবি: সংগৃহীত

মেডিভয়েস রিপোর্ট: করোনা রোগীদের চিকিৎসায় দেশে প্রথমবারের মতো চালু হয়েছে পোস্ট কোভিড (কোভিড-পরবর্তী) ফলোআপ ক্লিনিক। আজ শনিবার (২৯ আগস্ট) সকাল ৯টায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ) হাসপাতালের বহির্বিভাগ-১-এ এর উদ্বোধন করেন বিএসএমএমইউ উপাচার্য অধ্যাপক ডা. কনক কান্তি বড়ুয়া।

কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, করোনাভাইরাসে (কোভিড-১৯) আক্রান্ত রোগীরা হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র দেওয়ার পর এই ক্লিনিকে তাদের দীর্ঘমেয়াদি ফলোআপ চিকিৎসা দেওয়া হবে।

প্রতি শনি ও মঙ্গলবার বেলা ১১টা থেকে ২টা পর্যন্ত ইন্টারনাল মেডিসিন বহির্বিভাগে কোভিড-১৯ আক্রান্ত রোগীদের সেবা প্রদান করা হবে। প্রাইমারি কেয়ার সেন্টার হিসেবে কাজ করবে এই ক্লিনিকটি। 

সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, এখান থেকে যাদের অতি বিশেষায়িত সেবা যেমন-পালমোনলজি, কার্ডিওলজি, নেফ্রোলজি, নিউরোলজি, সাইকিয়াট্রি, ফিজিক্যাল মেডিসিনসহ অন্যান্য বিভাগের পরামর্শের প্রয়োজন হবে, তাদের সংশ্লিষ্ট বহির্বিভাগে রেফার করা হবে।

উপাচার্য অধ্যাপক ডা. কনক কান্তি বড়ুয়া বলেন, আগস্ট মাস শোকের মাস। এই শোককে কর্মস্পৃহা, একাগ্রতা, সেবার মানসিকতা ও নিষ্ঠার সাথে শক্তিতে পরিণত করে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় কোভিড-১৯ মহামারি মোকাবিলা করে যাচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, গত ৮ মার্চ বাংলাদেশে কোভিড-১৯ রোগী শনাক্তের পর থেকে ফিভার ক্লিনিক, টেলিমেডিসিন সেবা, আউটডোর সেবা, পিসিআর ল্যাব সার্ভিস, পৃথক কোভিড-১৯ হাসপাতাল স্থাপন অর্থাৎ করোনা সেন্টার চালু ও বহুবিধ গবেষণার মাধ্যমে বিএসএমএমইউ এই দুর্যোগকালে চিকিৎসা বিজ্ঞানে বাংলাদেশে অগ্রজ ভূমিকা পালন করছে। এরই ধারাবাহিকতায় কোভিড-১৯ ফলোআপ ক্লিনিক চালু করা হলো।

উপাচার্য বলেন, ‘আমরা জানি, কোভিড-১৯ মানবদেহের বিভিন্ন অঙ্গকে আক্রমণ করে এবং দীর্ঘস্থায়ী ক্ষতি করতে পারে। এ কারণে মাঝারি ও তীব্র কোভিড-১৯ আক্রান্ত রোগীদের দীর্ঘমেয়াদি ফলোআপের প্রয়োজন। যুক্তরাজ্য, চীন, ইতালিসহ বিভিন্ন দেশে ইতোমধ্যেই পোস্ট কোভিড-১৯ ফলোআপ সেবা চালু হয়েছে। ফলোআপের মাধ্যমে শরীরের বিভিন্ন অঙ্গের দীর্ঘমেয়াদি লক্ষণ ও প্রতিক্রিয়াগুলো চিহ্নিত করতে পারলে বিপুলসংখ্যক রোগীকে দীর্ঘমেয়াদি রোগের স্থায়িত্ব এবং মৃত্যুর হাত থেকে রক্ষা করা সম্ভব।’

অনুষ্ঠানে বিএসএমএমইউয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়, কোভিড-১৯ আক্রান্ত রোগীদের প্রায় পাঁচ বছর ফলোআপ করার প্রয়োজন হবে। যার জন্য বৃহৎ স্থান সংকুলানের প্রয়োজন। আপাতত মেডিসিন বহির্বিভাগে চালু হলেও পরবর্তীতে এই ক্লিনিক আরও বৃহৎ পরিসরে বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তঃ বা বহির্বিভাগের কোথাও স্থায়ীভাবে স্থানান্তর করা হবে। এই ফলোআপের অংশ হিসেবে রোগীদের যে ল্যাবরেটরি ও রেডিওলজিক্যাল পরীক্ষা-নিরীক্ষার প্রয়োজন হবে তা এই বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রদান করা সম্ভব।

ক্লিনিকটি পরিচালনায় অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় ও ইমপেরিয়াল কলেজ লন্ডন কারিগরি সহায়তা প্রদান করছে। তাছাড়া ক্লিনিকটি কোভিড-১৯ গ্লোবাল ফলোআপ কনসোর্টিয়ামের একটি অংশ বলে জানায় বিএসএমএমইউ।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. মুহাম্মদ রফিকুল আলম, উপ-উপাচার্য (গবেষণা ও উন্নয়ন) অধ্যাপক ডা. মো. জাহিদ হোসেন, রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ডা. এ বিএম আব্দুল হান্নান, প্রক্টর অধ্যাপক ডা. সৈয়দ মোজাফফর আহমেদ, ইন্টারনাল মেডিসিন বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. সোহেল মাহমুদ আরাফাত, পরিচালক (হাসপাতাল) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ডা. মো. জুলফিকার আহমেদ আমিন প্রমুখ।

মেডিভয়েসের জনপ্রিয় ভিডিও কন্টেন্টগুলো দেখতে সাবস্ক্রাইব করুন MedivoiceBD ইউটিউব চ্যানেল। আপনার মতামত/লেখা পাঠান [email protected] এ।
  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত